Saturday, April 3, 2021

উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশের মানুষ কেন বিদেশি বিশব্বিদ্যালয়ের বেচে নেয়....

উচ্চশিক্ষার জন্য কোন দেশ ভালো হবে তা নির্ধারণ করার জন্য অনেকগুলো ব্যাপার বিবেচনা করতে হবে। প্রথমত সে দেশের ভার্সিটিগুলোর র‍্যাঙ্কিং, জীবন যাত্রার মান, ডাইভার্সিটি, আবওহাওয়া, স্কলারশিপ, গ্রাজুয়েট এপ্লয়েবিলিটি, ইত্যাদি। সব গুলো ফ্যাক্টর বিবেচনা করে উচ্চশিক্ষার জন্য সেরা কয়েকটি দেশ হলো: যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে এমআইটি, হার্ভার্ড আর স্ট্যানফোর্ড এর মত পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলো। পড়াশোনা, রিসার্চ, ক্যারিয়ার, এন্টারপ্রেনারশিপ সব দিক দিয়েই এদেশের ভার্সিটি গুলো এগিয়ে আছে। বিখ্যাত র‍্যাঙ্কিং ওয়েবসাইট কিউএস এর ২০২১ সংস্করণ অনুযায়ী বিশ্বে সেরা পাঁচশোটির মধ্যে ছিয়াশি টি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীর উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথম পছন্দ যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৯ সালের হিসাব মতে দশ লাখের উপর ছাত্রছাত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছিলো। ভালো দিক: (১) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রী থাকায় সহজেই মানিয়ে নেয়া যায়। (২) আবওহাওয়া বেশ ভালো। তাই নতুন অবস্থায় মানিয়ে নিতে বেগ পেতে হয়না। (৩) বিশ্বের সব দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের ডিগ্রীর মূল্যায়ন করা হয়। খারাপ দিক: (১) উচ্চশিক্ষার খরচ অনেক বেশি। কিন্তু স্কলারশিপ পেলে খরচ অনেকটা কমে আসে। (২) শৃঙখলা ও নিরাপত্তা ভারতীয় উপমহাদেশ এর থেকে ভালো হলেও, ইউরোপ এর তুলনায় খারাপ। যুক্তরাজ্য নিউটনের মত মহাবিজ্ঞানীর আবাসভূমি যুক্তরাজ্য। একসময়কার প্রভাবপ্রতিপত্তি আর জ্ঞানবিজ্ঞান এর সেরার সিংহাসন টা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারালেও, কথায় আছে না মরা হাতির দাম লাখ টাকা। সেই কথাকে যথার্থ প্রমাণ করেই যুক্তরাজ্যের ভার্সিটিগুলো ব্রিটিশদের হারানো গৌরবের সাক্ষী হয়ে আজও বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং এ রাজত্ব করছে। কিউএস ২০২১ র‍্যাঙ্কিং এ সেরা পাঁচশোর মধ্যে ঊনপঞ্চাশ টি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাজ্যের। ভালো দিক: (১) শৃঙখলা ও নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভালো। (২)প্রচুর বাংলাদেশি ইউকে তে থাকায়, সেখানে গেলে মনে হবে এ তো একটা মিনি বাংলাদেশ। খারাপ দিক: (১) যারা আমার মত আমেরিকান ইংলিশে অভ্যস্ত তারা ব্রিটিশ ইংলিশ এর সাথে মানিয়ে নিতে বেগ পেতে হবে। (২) টিউশন ফি টা অনেক বেশি। তাই স্কলারশিপ ছাড়া বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীর পক্ষেই এদেশে পড়া একরকম অসম্ভব। অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া বসবাসের জন্য পৃথিবীর সেরা দেশ গুলোর মধ্যে একটি। কিউএস ২০২১ র‍্যাঙ্কিং এ সেরা পাঁচশোতে ছাব্বিশ টি বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী চার লাখের উপর ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রী অস্ট্রেলিয়াকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নিয়েছে। ভালো দিক: (১) আবওহাওয়া থাকার জন্য বেশ উপযোগিতা। তাই পড়াশোনা বা কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হয় না। খারাপ দিক: (১) এদেশের বিশেষ কোনো খারাপ দিক আমি খুঁজে পাইনি। চায়না নিঃসন্দেহে পৃথিবীর উদীয়মান শক্তি হলো চায়না। আর চায়নার এই অভূতপূর্ব উন্নতির পিছনে রয়েছে সরকারের উচ্চশিক্ষায় উজাড় করে খরচ করার মহৎ উদ্যোগ। চীন গত দশ বছরে ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি দেশে পরিণত হয়েছে। অন্তত পরিসংখ্যান দেখলে তাই মানতে হবে। চীনে এত ছাত্রছাত্রী যেতে আগ্রহী হওয়ার কারণ হলো উন্নতমানের শিক্ষাব্যবস্থা, স্কলারশিপ এর সহজ প্রাপ্তি, তুলনামূলক কম এডমিশন রিকোয়ারমেন্টস, ইত্যাদি। কিউএস ২০২১ র‍্যাঙ্কিং এ সেরা পাঁচশটির মধ্যে চীনের ছাব্বিশ টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী প্রায় পাঁচ লাখ ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার জন্য চায়নাকে তাদের গন্তব্য বানিয়েছিল। ভালো দিক: (১) যারা রিসার্চ কে তাদের ক্যারিয়ার বানাতে চায় তাদের জন্য চীনের ভার্সিটি গুলো স্বর্গরাজ্য। (২) খুব সহজেই ফুলি ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায়। (৩) থাকা খাওয়ার খরচ ইউরোপ আমেরিকার তুলনায় খুবই কম, কিন্তু জীবনযাত্রার মান তাদের কাছাকাছি। খারাপ দিক: (১) যারা চাইনিজ ভাষা জানেন না তাদের চলাফেরা করতে খুব অসুবিধা পোহাতে হবে। (২) চীনের সংস্কৃতি ও আইনকানুন পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় বেশ কনজার্ভেটিভ। তাই যারা পার্টি করতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এখানে টিকে থাকা বেশ কঠিন হবে। জার্মানি শিক্ষা ও গবেষণায় জার্মানদের জনপ্রিয়তা বিশ্বজোড়া। তাছাড়া জার্মানির বেশিরভাগ ভার্সিটিতে নামেমাত্র টিউশন ফি দিয়ে পড়াশোনা করা যায়। এছাড়া স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। কেউ যদি গবেষণাকে ক্যারিয়ার বানাতে চায়, তাদের জন্য জার্মানি এক স্বপ্নের নাম। কিউএস র‍্যাঙ্কিং এ সেরা পাঁচশোতে ত্রিশটি জার্মান ভার্সিটি রয়েছে। ভালো দিক: (১) শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এতই জোরদার যে রাতের তিনটা বাজেও আপনি বিনা ভয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারবেন। (২) পড়াশোনা ও থাকা খাওয়ার খরচ তুলনামূলক কম। খারাপ দিক: (১) জার্মান ভাষা না জানা থাকলে চলাফেরা করতে কিছুটা বেগ পেতে হবে। কানাডা কানাডা ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রীদের কাছে ইমিগ্র‍্যান্ট ফ্রেন্ডলি হিসেবে জনপ্রিয়। তাছাড়া কানাডা সরকারও ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সদয়। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রের সেকেন্ড হোম এই কানাডা। কানাডায় ভার্সিটির সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও, অনেক ভালো মানের ভার্সিটি আছে। র‍্যাঙ্কিং এ সেরা পাঁচশোতে সতেরোটি কানাডিয়ান ভার্সিটি রয়েছে। ভালো দিক: (১) কানাডায় নাগরিকত্ব পাওয়া তুলনামূলক সহজ ও কম সময়েই তা পাওয়া যায়। (২) পড়াশোনা শেষে সহজেই চাকরি পাওয়া সম্ভব। খারাপ দিক: (১) যাদের ঠান্ডা সহ্য হয়না, কানাডা তাদের জন্য নয়। কারণ কানাডার কিছু কিছু প্রভিন্সে শীতের তাপমাত্রা মাইনাস ২০-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। নর্ডিক দেশগুলো ডেনমার্ক, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড এই পাঁচটি দেশ মিলে নর্ডিক অঞ্চল। পৃথিবীতে বসবাসের জন্য সেরা দেশগুলোর মধ্যে উপরোক্ত দেশগুলো উপরের সারিতে থাকে। শুধু তাই নয়, শিক্ষা ও গবেষণায় এরা খুব এগিয়ে। একসময় বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা থাকলেও এখন টিউশন ফি দিতে হয়। এ অঞ্চলের কয়েকটি অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হলো: আরহাস ইউনিভার্সিটি, উপ্সালা ইউনিভার্সিটি, ক্যারোলিন্সকা ইন্সটিটিউট, স্টকহোম ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ হেলসিনকি, ইত্যাদি। ভালো দিক: (১) উন্নত জীবন-যাপন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। (২) ভার্সিটি গুলোতে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফুলি ফান্ডেড স্কলারশিপ রয়েছে। (৩) বেশিরভাগ নেটিভ ইংরেজিতে ফ্লুয়েন্ট হয়। খারাপ দিক: (১) জীবিনধারণের জন্য যাবতীয় খরচ অনেক বেশি। জাপান বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে জাপানের কোম্পানিগুলো পৃথিবীতে অন্যতম সেরা। তাহলে বুঝাই যাচ্ছে জাপানের ভার্সিটি গুলোও ভালোই হবে। র‍্যাঙ্কিং ও একই কথা বলছে। কিউএস র‍্যাঙ্কিং এ সেরা পাঁচশোতে ষোলটি ইউনিভার্সিটি আছে জাপানের। ভালো দিক: (১) গবেষণার জন্য জাপানের মত জায়গা খুব কমই আছে। (২) জাপানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জগদ্বিখ্যাত। (৩) অনেক প্রযুক্তি কোম্পানি থাকায় সহজেই চাকরি পায় গ্রাজুয়েটরা। খারাপ দিক: (১) জাপানের খুব কম মানুষ ইংরেজি বুঝে। তাই চলাফেরায় সমস্যা হবে। দক্ষিণ কোরিয়া মোবাইল কোম্পানি স্যামসাং এর নাম কে না জানে? এটি কিন্তু কোরিয়ার কোম্পানি। এরকম আরও অনেক কোম্পানি আছে কোরিয়ায়। কোরিয়ার কয়েকটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এর নাম হলো: সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কোরিয়ান এডভ্যান্সড ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি। ভালো দিক: (১) কোরিয়ান ড্রামা বা কে-পপের ভক্তদের জন্য তো কোরিয়া এক স্বপ্নের নাম। (২) জীবিনযাত্রার মান বেশ উন্নত। খারাপ দিক: (১) এদেশেও বেশি মানুষ ইংরেজি জানে না। তাই চলাফেরায় সমস্যা হয়। Md Shah alam

0 Comments:

Post a Comment

Subscribe to Post Comments [Atom]

<< Home