Wednesday, June 23, 2021

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

বাংলাদেশ করোনার পরে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমিত হচ্ছে  

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি। 

এটি ছত্রাক জনিত রোগ। মিউকোর মানে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। এর আবাস সাধারণ মাটি, ফলফলাদি, গাছপালা, সার এবং শাকসবজি তে। নাক, ও সুস্থ মানুষের শ্লেষ্মার মধ্যে ও স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারে। এরা মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে আক্রমণ করে। কোভিড ১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফুসফুস দুর্বল থাকে তাই তারা এ রোগে আক্রমণ হওয়ার ঝুকি বেশি। 



তবে এটা সংক্রামক নয় তাই এটা নিয়ে ভীত হওয়ার দরকার নেই। 


ব্ল্যাক ফাঙ্গাস এর উপসর্গ 

#  নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রক্ত  পড়া। 
#  চোখে ব্যথা এবং চোখ ফুলে যাওয়া। 
# চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া।
# চোখে ঝাপসা দেখা, যা থেকে পরে দৃষ্টিশক্তি        চলে যেতে পারে। 
#  নাকের চামড়ার চারপাশে কালো ছোপ ছোপ        দাগ দেখা দেয়।




সুরক্ষা পাওয়া উপায় 

*  ধুলো বালি রয়েছে এমন জায়গা থেকে এড়িয়ে যাওয়া। 
* প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থাপনা পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ           হয়েছে সেসব স্থান থেকে এড়িয়ে চলা। 
*  কোনো কারনে চামড়া কেটে গেলে তা যেন       ধুলো বালি না পড়ে খেয়াল রাখা। 

*  কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের ডায়াবেটিস          নিয়ন্ত্রণ রাখা। 
* রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার সময় পরিচ্ছন্ন         থাকতে হবে। 
*  মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। 


Tuesday, June 22, 2021

পরীক্ষার খাতায় 33 এ পাশ, এই নিয়ম কেন???

পরীক্ষার খাতায় ৩৩ এ পাশ,এই নিয়ম  কেন? 

মজার ব্যাপার হলো ৩৩ নম্বর পাসমার্ক হিসেবে স্বীকৃত শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারত ও পাকিস্তানেও শিক্ষার্থীদের পাশ করতে ৩৩ নম্বর পেতে হয়।


১৮৫৮ সালে উপমহাদেশে ১ম বারের মত মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা চালু করা হয়। কিন্তু পাশ নম্বর কত হবে তা নির্ধারণ নিয়ে বোর্ড কতৃপক্ষ দ্বিধায় পড়ে যায়, এবং ব্রিটেনে কনসাল্টেশনের জন্য চিঠি লেখা হয়।

তখন কাল আমলে ব্রিটেনে স্থানীয় ছাত্রদের জন্য পাশের নম্বর ছিল ৬৫। তখন বুদ্ধি ও দক্ষতায় উপমহাদেশের মানুষ কে ইংরেজদের তুলনায় অর্ধেক বলে মনে করা হতো।মানে তারা মনে করত বাঙ্গালিরা মেধায় অনেক দূর্বল।


এর-ই ধারাবাহিকতায় মেট্রিকুলেশনের পাশ নম্বর ৬৫ এর অর্ধেক ৩২.৫ নির্ধারণ করা হয়। ১৮৫৮ সাল হতে ১৮৬১ সাল পর্যন্ত পাশ নম্বর ৩২.৫ ই ছিল। ১৮৬২ সালে তা গননার সুবিধার্থে বৃদ্ধি করে ৩৩ করা হয়। সেই থেকে এই ৩৩ নম্বর-ই চলছে। ফেডারেল পাকিস্তানেও ছিল, বাংলাদেশেও তাই চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে M.I.T তে বিষয় ভেদে ৩৫ থেকে ৪৫ এমন কি বাংলাদেশেও ৩৩ মার্ক কে পাসমার্ক হিসেবে ধরা হয়।

লক্ষনীয় ও আজব ব্যাপার হল,তারপর প্রায় ১৬০ বছর পার হয়ে গেলেও কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেননি, বা উপনিবেশক এই নিয়ম বদলের চেষ্টাও করেননি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ৩৩ নম্বরে উত্তীর্ন হওয়ার ধারাবাহিক ইতিহাস বদলায়নি।

সংগৃহীত

Saturday, June 19, 2021

আবিষ্কারে আমরা পিছিয়ে নেই

পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান "সরকারি সাড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ" এর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তারিফ করোনা রোগীদের জন্য বাতাস থেকে অক্সিজেন তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে😍😍

অভিনন্দন 👏👏




Wednesday, June 16, 2021

নিজেকে বাঁচান, অন্য কে জানিয়ে দিন

শুধু 90 না, আমি মনে করি আমাদের মধ্যে 99% লোকই এটি জানে না। তাই দুর্ভাগ্যবশত এটাই কারণ হয়ে দাঁড়ায় কোনো দুর্ঘটনার।


 রান্নার জন্যে আমাদের ঘরে যে L.P.G Gas থাকে আপনি কী জানেন তাতে সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ লেখা থাকে।

 সিলিন্ডারে A / B / C / D লেখা থাকে আর তার সাথে থাকে দুটি করে নম্বর। 

এখানে A বলতে January, February আর March মাসকে বোঝায়।
 B - April, May, June ;
C - July, August, September বোঝায় আর 
D বলতে October, November আর December-কে বুজায়

 বাকি দুই নম্বর সালকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ ওপরের ছবিটা দেখুন। এখানে B. 13 লেখা আছে। এর মানে এই সিলিন্ডারের এক্সপায়ার ডেট 2013 সালের June মাসে শেষ হচ্ছে। এই ডেটের পর থেকেই সিলিন্ডারে লিকেজ এবং অন্যান্য দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে তাই সময় থাকতে সচেতন হন। এর পর থেকে যখন কোনো নতুন সিলিন্ডার নেবেন আগে এক্সপায়ার ডেটটা দেখে নেবেন। 

 ছবি সুত্র : গুগল।

Saturday, May 22, 2021

ঘড়ির কাটা সবসময় ডান দিক থেকে বাম দিকে যায় কেন ???





খুবই চমৎকার একটি প্রশ্ন। ঘড়ির কাটা সবসময়ই ডান দিকে ঘুরে। ঘড়ি সাধারণত আবিষ্কার হয় ইউরোপ মহাদেশে। সাধারণ দেয়াল ঘড়ি তবে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা থেকেই ঘড়ির ব্যবহার শুরু হয়। মানুষ সর্বপ্রথম সূর্যঘড়ি ব্যবহার করা শুরু করে। চীনে জলঘড়ি আবিষ্কার করা হয় বলে ধারণা করা হয়। 

নানারকমের ঘড়ি আছে

 সূর্যঘড়ি জলঘড়ি 

বালুঘড়ি 

বৈদ্যুতিক ঘড়ি ইত্যাদি। 


 ঢাকার বলধা গার্ডেনে সূর্যঘড়ি (উইকিপিডিয়া)



 বর্তমানের ঘড়ির কাটা ডান দিকে ঘুরার কারন বর্তমানের ঘড়ির যা কাটাভিত্তিক তার প্রচলন শুরু হয় ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপমহাদেশে।

ইউরোপ হল উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। সূর্য সবসময়ই তাদের জন্য দক্ষিণ আকাশে হেলে থাকে। তাই ইউরোপ এ কোন কিছুর ছায়া ডান দিকে ঘুরে সূর্যের জন্য। তাই ঘড়ি বানানোর সময় এই বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের ব্যবহার করা হয়। তাই ঘড়ির কাটা ডান দিকে ঘুরে। ঘড়ি দক্ষিন গোলার্ধে অবস্থিত কোন দেশে আবিষ্কার হলে, সেটা হয়ত বামেই ঘুরত তখন।

এরদোগান মুসলিম বিশ্বে এতো বেশি জনপ্রিয় কেন ???

শেষ করে এরদোগান লেবুর শরবত আর তিলের পাউরুটি বেচতেন। পরিবারের তেমন বিত্ত ছিল না। সত্তরের দশকে হাই স্কুলে থাকাকালে এরদোগান জাতীয় সালভেশন পার্টি নামে একটি ইসলামী রাজনৈতিক যুব সংগঠনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ইস্তাম্বুলের মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। ভালো ফুটবল খেলতেন। খেলাধুলা ছেড়ে ইস্তাম্বুলের পরিবহন কর্তৃপক্ষের একটি চাকরী নিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের দাবি চাকরি করতে হলে গোঁফ কেটে ফেলো। শেষে চাকরিটাই ছাড়লেন। 



 এরদোগান ১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে এমস এমিন এরদোগানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাঁর প্রথম পুত্র আহমেট বুরাক ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 




এরদোগান ১৯৮১ সালে মারমারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেন। ১৯৮৫ সালে ইস্তাম্বুল সিটি ওয়েলফেয়ার পার্টির প্রধান হন, বয়স ছিল তখন মাত্র ৩১ বছর। তাঁর দ্বিতীয় কন্যা এবং চতুর্থ সন্তান সুম্যিয়ে (Sumeyye) একই বছর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে এরদোয়ান যখন ইস্তাম্বুলের মেয়র হন, তখন তিনি একজন ৪০ বছরের ডার্ক হর্স প্রার্থী ছিলেন। মূলধারার মিডিয়া তাঁকে বিদ্রূপ করত। 

কিন্তু পরে এমনকি তাঁর সমালোচকরাও স্বীকার করেছেন যে তিনি ইস্তাম্বুলকে পরিষ্কার ও সবুজ করে তুলতে ভাল কাজ করেছেন। কেন তার সমর্থকরা তাকে খুব বেশি ভালবাসে? এরদোগান ইস্তাম্বুলের মেয়র হয়েই মানুষের হৃদয় জিতেছিলেন। কবিতা পাঠের জন্য এরদোগানকে কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয় এবং তাকে ইস্তাম্বুল মিউনিপিক্যালিটির দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।




 ২০০১ সালের ১৪ আগস্ট একে পার্টি (জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি) গঠন করেন। ২০০৩ সালে ৪৯ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৩ সালে অভ্যুত্থানের প্রয়াস তাকে থামাতে পারেনি। তুরস্কের জনগণের নির্বাচিত প্রথমবারের রাষ্ট্রপতি হন ২০১৪ সালে। 


 এরদোগানের বিখ্যাত "ওয়ান মিনিট" রাষ্ট্রপতি রেসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেলকে "ইসলামী সন্ত্রাস" এই অভিব্যক্তিটি ব্যবহার না করার জন্য উপদেশ দেন। ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাস’ এই কথাটা আমাদের মুসলমান হিসাবে মারাত্মকভাবে দুঃখিত করে। এ জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা ঠিক নয়, কারণ ইসলাম ও সন্ত্রাস সম্পর্কহীন। ইসলামের আক্ষরিক অর্থ শান্তি, এটি সন্ত্রাসের সাথে জড়িত হতে পারে না। সুতরাং, সন্ত্রাসের সাথে এর উল্লেখ এই ধর্মের অনুগামীদের দুঃখ দেয়। 





 রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বের এক মহান নেতা, একজন দুর্দান্ত রাজনীতিবিদ, মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি আশা। তিনি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে মুসলিম জাতির প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সারা বিশ্বের রাষ্ট্রহীন, নির্বাসিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেন।



 পশ্চিমা আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে তাঁর শক্তিশালী অবস্থান, মধ্য প্রাচ্যের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শ্রদ্ধাশীল এবং শক্তিশালী উপস্থিতির জন্যে তিনি মুসলমানদের প্রিয় নেতা।

Tuesday, May 18, 2021

জিয়াউর রহমানের নাম কেন সবার মুখে মুখে

জিয়াউর রহমানের পাঁচ বছরের শাসনে প্রতি মাঘের শেষে বর্ষন হয়েছিল কিনা তা কেউ হিসাব রাখেনি, তবে এই পাঁচ বছরে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি । অতি বর্ষনের বন্যা না, খরা না, জলোচ্ছাস না।



দেশে কাপড়ের অভাব কিছুটা দূর হলো। দ্রব্যমূল্য লাগামছাড়া হলো না। বাংলাদেশের নদীতে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়তে লাগলো। 

 বাংলাদেশের মানুষ মনে করতে লাগলো অনেক দিন পর তারা এমন এক রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছে যিনি সত্‍। নিজের জন্য বা নিজের আত্নীয়স্বজনের জন্য টাকা পয়সা লুটপাটের চিন্তা তার মাথায় নেই।


 বরং তার মাথায় আছে দেশের জন্য চিন্তা। তিনি খাল কেটে দেশ বদলাতে চান। জিয়া মানুষটা সত্‍ ছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। লোক দেখানো সত্‍ না, আসলেই সত্‍। তার মৃত্যুর পর দেখা গেল জিয়া পরিবারের কোনো সঞ্চয় নেই।


" হুমায়ূন আহমদ। (দেয়াল, পৃষ্ঠা-১৯৩)


 সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া একজন প্রেসিডেন্টের নাম জিয়াউর রহমান।

Thursday, May 6, 2021

হাদিসে মন কে মাংস পিন্ড বলা হয়েছে। আসলেই মন মাংস পিন্ড

জেনে রেখ, মানুষের দেহের মধ্যে এক খন্ড মাংশ পিন্ড আছে, যখন তাহা সংশোধিত হয়, তখন সমগ্র দেহ সংশোধিত হয়ে যায়। আর যখন তা দুষিত হয় তখন সমগ্র দেহটাইত দুষিত হয়ে যায়। মনে রেখ ওটাই ক্বলব।” ( বোখারী ও মুসলিম শরীফ)। 

 এই হাদিসের বিষয়েই সম্ভবত প্রশ্নটি করা হয়েছে৷ তরজমাকারী হাদিসের তরজমা করতে গিয়ে এখানে 'মন' শব্দটি ব্যবহার করেছেন৷ মন তো বাংলা শব্দ৷ আরবী যেটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হল قَلْبٌ (ক্বলব) যার বাংলা প্রতিশব্দ হল হৃদয়, হৃদপিণ্ড, অন্তর, মন, অন্তঃকরণ, ইত্যাদি এবং ইংরেজী প্রতিশব্দ হল Heart, Mind, ইত্যাদি৷ 


 আপনি জানতে চান, ক্বলব নামে কোনো মাংসপিন্ড মানবদেহে সত্যিই আছে কিনা? আপনি যদি এনাটমি পড়েন, তবে দেখবেন— এই অঙ্গটি মানুষের শরীরের ভিতর থাকে৷ যাকে হৃদপিণ্ড (Heart) বলা হয়৷ এটি মানুষের বুকের ভিতর থাকে৷ এখানে ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন বুকের ভিতর হৃদয় বা হৃদপিণ্ড, যাকে আরবী তে ক্বলব (قلب) বলা হয়৷

 সুতরাং, মানুষের শরীরে ক্বলব নামে মাংসপিণ্ড সত্যিই বিদ্যমান, যার কথা হাদিসে বলা হয়েছে এবং কুরআনেও বলা হয়েছে৷ তবে আপনার শরীরে হৃদপিণ্ডের উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্য এনাটমি না পড়লেও চলবে৷ আপনার বুকে হাত রাখুন, তাহলেই হৃদপিন্ডের কম্পন অনুভব করবেন৷ ক্বলব শব্দের অর্থ তা নির্ভর করেে এর ব্যবহারের উপর৷ 

যেমন প্রাণিবিদ্যার আলোচনায় 'ক্বলব' বলতে অবশ্যই হৃদপিণ্ড বা Heart কে বুঝায়৷ কবি সাহিত্যিকদের ভাষায় ক্বলব বলতে 'মন' বা 'mind' অথবা 'হৃদয়' বা Heart কে বুঝায়৷ "কত কবি সাহিত্যিক তাদের কবিতা, গল্প, উপন্যাসে তাদের মনের ভাষা ব্যক্ত করেন" "হৃদয় গভীরে তুমি আছো" "মনের কথা চেপে রাখা অত্যন্ত কঠিন" "হৃদয় উজাড় করে দিয়েছি যা ছিল সবই" এসব বাক্যে মন বা হৃদয় শব্দ দুটির ব্যবহরিক প্রয়োগ দেখানো হয়েছে৷ আমরাও দৈনন্দিন কথাবার্তায় মন বা হৃদয় বলতে হৃদপিণ্ডকে বুঝিয়ে থাকি৷ "

এই মন সর্বদা তোমাকেই ভাবে" এমন কথা বলার সময় আমরা হাত দিয়ে আমাদের বুকের দিকেই ইঙ্গিত করি; যেন মন আমাদের বুকের ভিতরই অবস্থিত৷ আমাদের ভাষার এধরণের প্রয়োগগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখবেন মানুষের হৃদপিণ্ডই 'মন', হৃদয় কিংবা 'অন্তর' এর প্রতিনিধিত্ব করে৷ হাদিসে যে ক্বলব শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, সে ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে৷ যদিও "মাংশপিণ্ড" দ্বারা এনাটমিকাল হার্ট বা "হৃদপিন্ড" কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, 
কিন্তু, এর দ্বারা মানুষের মন বা হৃদয়কে বুঝানো হয়েছে৷ কিন্তু, এটাতো ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারিক দিক। বৈজ্ঞানিক দিক থেকে 'মন' বা Mind শব্দটির একটা সমস্যা আছে৷ দৈনন্দিন ব্যবহারে আমরা 'মন' বলতে হৃদয়কে বুঝালেও বৈজ্ঞানিক বিবেচনায় বা প্রকৃত পক্ষে 'মন' দ্বারা মস্তিষ্ককে বুঝায়৷ 

অর্থাৎ, 'মন' Mind দ্বারা মানুষের ব্রেইন, মস্তিষ্ক, স্মৃতীকে বোঝায়৷ যেমন: "আমার মনে নেই" কথাটির অর্থ "আমার স্মরণ নেই"৷ যা মানুষের ব্রেইনের সাথে সংশ্লিষ্ট৷ "সে মনে মনে ভাবছে" অর্থাৎ, সে মনে মনে চিন্তা করছে৷ অবশ্যই এখানে 'মন' শব্দটি ব্রেইন বা মস্তিষ্কের প্রতিনিত্ব করছে৷ 


কিন্তু, ব্রেইন কোনো মাংসপেশি নয় এবং ব্রেইনের আরবীও ক্বলব নয়৷ আরবী ٌعَقْل বা আক্বল শব্দটি দ্বারা ব্রেইন, বুদ্ধি, জ্ঞান ইত্যাদি বুঝানো হয়৷ হৃদপিন্ডই হল মাংসপেশি৷ সুতরাং, হাদিসে উল্লেখিত ক্বলব قلب বা বাংলায় 'মন' দ্বারা হৃদপিণ্ড নামক অঙ্গকে বুঝানো হয়েছে এবং সেটা ভাষাগত দিক বিবেচনায় রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে৷

Monday, May 3, 2021

গভীর রাতে কুকুর ডাকে কেন??

কুকুর গভীর রাতে কান্না করার পিছনে অনেক গুলো কারণ দেখানো যায়। 


সাধারণ মানুষের চিন্তা, আধ্যাত্মিক মতবাদ এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক মতবাদ রয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞানের তথ্য গ্রহনযোগ্য। 
 দাদু, ঠাকুমা বা আমাদের গুরুজনদের কাছ থেকে এটা শুনে অভ্যস্ত যে কুকুর কাঁদা মানে কারও মৃত্যু আসন্ন। এ তো গেল ধারণা বা ‘সংস্কার’। 
 এ ব্যাপারে জ্যোতিষীদের, তাঁদের মতে, কুকুর তখনই কাঁদে যখন আশপাশে কোনও ‘অশরীরী আত্মা’ ঘুরে বেড়ায়। 

যা সাধারণ মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়, সেটার উপস্থিতি টের পায় কুকুররা। তাই তাদের কাছেপিঠে ‘আত্মা’ ঘুরে বেড়ালেই কুকুর নাকি কাঁদতে শুরু করে। আর কুকুর কাঁদলেই লোকজন তখন তাদের তাড়ানোর চেষ্টা করে। তাই তাদের কাছেপিঠে ‘আত্মা’ ঘুরে বেড়ালেই কুকুর নাকি কাঁদতে শুরু করে। আর কুকুর কাঁদলেই লোকজন তখন তাদের তাড়ানোর চেষ্টা করে। 

 এ তো প্রচলিত ধারণা বা জ্যোতিষীদের কথা। এ ব্যাপারে বিজ্ঞান কী বলছে, বিজ্ঞান বলছে, কুকুর কাঁদে না। ওরা ও ভাবে ডাকে। রাতে এ ভাবে আওয়াজ করে দূরে তার সঙ্গীদের কাছে কোনও বার্তা পৌঁছনোর চেষ্টা করে। 

এ ছাড়া এ ভাবে আওয়াজ করে তার অবস্থানটা সঙ্গীদের জানায়। দ্বিতীয়ত, ওরা প্রাণী। ওদেরও চোট-আঘাত লাগতে পারে। ব্যথা হতে পারে। শরীরে কোনও কষ্ট হতে পারে। সেই পরিস্থিতিকে জানান দিতেই ও ভাবে আওয়াজ করে সঙ্গীদের ডাকে।

 তৃতীয়ত, কুকুররা একা থাকতে পছন্দ করে না। তাই যখনই একাকিত্ব বোধ করে, তখনই সঙ্গীদের ও ভাবে আওয়াজ করে ডাকে।

Friday, April 30, 2021

একজন মুসলিম নারী হয়ে ও আপনি কেন হিজাব পরেন না ???

এ অঞ্চলে হিজাব বলতে সাধারণত উরনা বা এ জাতীয় কাপড় দিয়ে মাথা ও বক্ষদেশ ঢাকা আর যারা নেকাব করতে চায় তাদের নেকাব করাকে বুঝায়। আমি শুরুতেই বলে রাখি আমি উরনা বা স্কার্ফ পরি ক্লাস ফাইভ থেকে আর বোরখা পরি এস এস সি'র পর থেকে। তবে আমার এমন অনেক পরিচিত আছে যারা হিজাব নেকাব তো দূরের কথা মাথায় কাপড়ও দেয় না যদিও এরা সবাই মুসলিম৷ আবার আমার এমন এক বন্ধু ছিল যে হিন্দু হয়েও সুন্দর করে হিজাব করতো। তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলতো যে তার হিজাব করতে ভালো লাগে। তবে মুসলিম মেয়ে হয়েও যে যে কারণে একটা মেয়ে হিজাব পরিধান করে না তার কিছু কারণ তুলে ধরছি৷ 




 1). পরিবারের থেকে এ ধরনের শিক্ষা না পাওয়া বা কোন চাপ না পাওয়া। ছেলেমেয়েদের প্রথম শিক্ষার স্থান হলো তার পরিবার। পরিবার থেকে এ ধরনের শিক্ষা না পেলে বা চাপ না দিলে কেওই হিজাব পরতো না৷ আমার এখনো মনে আছে আমি যখন প্রথম বোরখা পরি তখন আমি মোটেও বোরখা পরতে চাই নি। অনেক চিল্লাফাল্লা করছি কিন্তু কাজ হয় নি।আর এখন আমি নিজেই কোথাও বোরখা ছাড়া যাই না৷ এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানেও বোরখা পরে যাই তবে কারও চাপে না নিজের ইচ্ছেতে৷ কেননা এখন আমি পর্দা সম্পর্কে কিছুটা জানি৷ আবার যদি কোন কারণে বোরখা ছাড়া বের হই, তা দুই মিনিটের জন্য হলেও, আপুরা অনেক কথা বলে৷ বকা দেয় সেই সাথে পর্দার কথা মনে করিয়ে দেয়।

 2). পরিবারের মানুষদেরই ধর্মীয় জ্ঞান না থাকা। প্রথমে বলেছি যে পরিবার মেয়েদের হিজাব পরার ব্যাপারে কিছু বলে না তাই তারা হিজাব পরে না। কিন্তু হিজাবের ব্যাপারে যে পরিবারের মানুষেরাই অজ্ঞ তারা আর সন্তানদের কি শিক্ষা দিবে!! এক বড় আপু যিনি হাত মোজাও পরেন তাকে দেখে এক অবিভাবক তার ছোট সন্তানটাকে বলে যে দেখো কালো ভূত। সে সন্তান বড় হয়ে কি শিখবে!!

 3). উগ্র নারীবাদীতার প্রভাব। আমাদের দেশে কিছু নারীবাদী যারা পুরুষের সমান অধিকার চায়। কিন্তু তারা কখনো এটা বুঝে না যে ইসলামে তারা সব দিক দিয়ে পুরুষদের উপরে আছে। একটা নারী না থাকলে পুরুষ জন্মাতে পারত না। আবার পুরুষ ছাড়া একটা নারী সন্তান জন্মদান করতে পারবে না। মানে নারী পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক। তারা কখনো সমান হতে পারবে না৷ সেই নারীরা পুরুষের মতো রাস্তায় উদাম বুকে চলাফেরা করতে চায়, ছোট চুল রাখে, তারা পুরুষদের মতো বাইরে বাইরে থাকতে চায়, ধুমপান করতে চায় কিন্তু নারীরা যে ঘরের সৌন্দর্য সেটা তারা বুঝে না৷ ইসলাম ধর্মে একজন মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত দেওয়া হয়েছে৷ আবার একজন সন্তান কাকে বেশি গুরুত্ব দিবে তার তালিকাতে প্রথম তিনবারেই মায়ের নাম আর তারপর বাবার নাম নেওয়া হয়েছে। একটা মেয়েকে এত সম্মান দেওয়ার পরও তারা পুরুষের সমতুল্য হতে চায়,তাদের মতো করে চলতে চায়। ছবি: অনেক আগে থেকেই গ্যালারিতে ছিল,সোর্স মনে নাই৷। নারীবাদীদের স্লোগান এমন হওয়া উচিত যে আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই,স্বামীর কাছ থেকে পূর্ন অধিকার চাই, বাবার সম্পত্তি থেকে আমি না চাইলে আমার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, আমি আমার নিরাপত্তা চাই এমনটা হওয়া উচিত ছিল। এখনকার নারীবাদীদের ব্যাপারটা এমন যে স্বামীর সেবা করলে সেটা হয় দাসীবৃত্তি আর বসের সেবা করলে সেটা হচ্ছে স্বাধীনতা। 

 4). নাস্তিকতা। অনেক মেয়েরা আছে যারা মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও আল্লাহতে বিশ্বাসী না তাই তারা ইসলামের কোন নিয়ম মানতে রাজি না৷ এরাও হিজাবে সমর্থন করে না। এগুলা হচ্ছে মূখ্য কারণ হিজাব না করার জন্য এছাড়াও কিছু গৌণ কারণ আছে যেমন পরিবেশ, বন্ধুবান্ধবের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া ইত্যাদি৷

Wednesday, April 28, 2021

পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান পৃথক করার পরিকল্পনা ছিল ভারতের

 পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা হয় ভারতে। এ ব্যাপারে শুধু ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’এর কর্মকর্তারারই শুধু মুখ খুলেনি, মুখ খুলেছে বাংলাদেশের বহু নেতাও। যেমন এক কালের নেতা ও পরবর্তীতে জাতীয় লীগ নেতা জনাব অলি আহাদ বলেন, “১৯৬২ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থানকালে ময়মনসিংহ নিবাসী রাজবন্দীদ্বয় আব্দুর রহমান সিদ্দিকী ও আবু সৈয়দের নিকট হইতে আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিষয়াদী অবগত হই।

ভারতে মুদ্রিত বিচ্ছিন্নতাবাদ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন ময়মনসিংহ ও বিভিন্ন জেলায় বিতরণকালেই তাহারা গ্রেফতার হইয়াছিলেন।”-(অলি আহাদ)। ইতিহাসের নামে যে মিথ্যাচার ছড়ানো হয়েছে তা হল, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে বাংলাদেশের সৃষ্টি মূলতঃ মুক্তিবাহিনীর অবদান। ভারতের নাম তারা সহজে মুখে আনতে চায় না। ইতিহাসের পাঠ্য পুস্তকে মুক্তিবাহিনীর সেক্টর কমান্ডারগণ কে কথায় লড়াই করেছেন সে বিবরণ থাকলেও ভারতীয় বাহিনীর হাজার হাজার সৈন্য কোথায় কি ভাবে যুদ্ধ করলো তার সামান্য বিবরণও নেই। বিবরণ নেই ভারতীয় বিমান ও নৌবাহিনীর ভূমিকার। স্কুলের পাঠ্যবইয়ে কোন উল্লেখ সে যুদ্ধে কতজন ভারতীয় সৈন্য প্রাণ দিয়েছে। মুক্তিবাহিনীর অবদান অবশ্যই আছে, তবে তারাই মূল নয়।

সত্য হলো, মুক্তিবাহিনীর পক্ষে ৯ মাসে পুরা বাংলাদেশ দুরে থাক একটি জেলা, একটি মহকুমা বা একটি থানাও মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। মূল লড়াই লড়েছে ভারতীয় সেনা বাহিনী। তবে ভারত শুরু থেকেই একটি মুসলিম দেশ ভাঙ্গার অপরাধ নিজ কাঁধে নিতে চায়নি। কারণ এটি আন্তর্জাতিক আইনের খেলাপ। 



তাছাড়া এমন কাজ তখন অন্যদেরও বৈধতা দিবে ভারত-ভাঙ্গার কাজে অংশ নেওয়ার। ইতিহাসে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এ ভয়ে নিজেদের অর্থ, অস্ত্র ও লোকবলদ্বারা পরিচালিত পাকিস্তান ভাঙ্গার এ যুদ্ধকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বলে চালানোর চেষ্টা করেছে আগে । আর এখন সরাসরি বলছে বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের যুদ্ধ হয়নি বরং যুদ্ধ হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে ১৯৯৭১ সালে!?? ভারত এমন একটি রাষ্ট্র যাদের মিথ্যাচার প্রতারণা ও মুসলিম বিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক মনোভাব রক্তে মিশে আছে।