Friday, April 30, 2021

একজন মুসলিম নারী হয়ে ও আপনি কেন হিজাব পরেন না ???

এ অঞ্চলে হিজাব বলতে সাধারণত উরনা বা এ জাতীয় কাপড় দিয়ে মাথা ও বক্ষদেশ ঢাকা আর যারা নেকাব করতে চায় তাদের নেকাব করাকে বুঝায়। আমি শুরুতেই বলে রাখি আমি উরনা বা স্কার্ফ পরি ক্লাস ফাইভ থেকে আর বোরখা পরি এস এস সি'র পর থেকে। তবে আমার এমন অনেক পরিচিত আছে যারা হিজাব নেকাব তো দূরের কথা মাথায় কাপড়ও দেয় না যদিও এরা সবাই মুসলিম৷ আবার আমার এমন এক বন্ধু ছিল যে হিন্দু হয়েও সুন্দর করে হিজাব করতো। তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলতো যে তার হিজাব করতে ভালো লাগে। তবে মুসলিম মেয়ে হয়েও যে যে কারণে একটা মেয়ে হিজাব পরিধান করে না তার কিছু কারণ তুলে ধরছি৷ 




 1). পরিবারের থেকে এ ধরনের শিক্ষা না পাওয়া বা কোন চাপ না পাওয়া। ছেলেমেয়েদের প্রথম শিক্ষার স্থান হলো তার পরিবার। পরিবার থেকে এ ধরনের শিক্ষা না পেলে বা চাপ না দিলে কেওই হিজাব পরতো না৷ আমার এখনো মনে আছে আমি যখন প্রথম বোরখা পরি তখন আমি মোটেও বোরখা পরতে চাই নি। অনেক চিল্লাফাল্লা করছি কিন্তু কাজ হয় নি।আর এখন আমি নিজেই কোথাও বোরখা ছাড়া যাই না৷ এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানেও বোরখা পরে যাই তবে কারও চাপে না নিজের ইচ্ছেতে৷ কেননা এখন আমি পর্দা সম্পর্কে কিছুটা জানি৷ আবার যদি কোন কারণে বোরখা ছাড়া বের হই, তা দুই মিনিটের জন্য হলেও, আপুরা অনেক কথা বলে৷ বকা দেয় সেই সাথে পর্দার কথা মনে করিয়ে দেয়।

 2). পরিবারের মানুষদেরই ধর্মীয় জ্ঞান না থাকা। প্রথমে বলেছি যে পরিবার মেয়েদের হিজাব পরার ব্যাপারে কিছু বলে না তাই তারা হিজাব পরে না। কিন্তু হিজাবের ব্যাপারে যে পরিবারের মানুষেরাই অজ্ঞ তারা আর সন্তানদের কি শিক্ষা দিবে!! এক বড় আপু যিনি হাত মোজাও পরেন তাকে দেখে এক অবিভাবক তার ছোট সন্তানটাকে বলে যে দেখো কালো ভূত। সে সন্তান বড় হয়ে কি শিখবে!!

 3). উগ্র নারীবাদীতার প্রভাব। আমাদের দেশে কিছু নারীবাদী যারা পুরুষের সমান অধিকার চায়। কিন্তু তারা কখনো এটা বুঝে না যে ইসলামে তারা সব দিক দিয়ে পুরুষদের উপরে আছে। একটা নারী না থাকলে পুরুষ জন্মাতে পারত না। আবার পুরুষ ছাড়া একটা নারী সন্তান জন্মদান করতে পারবে না। মানে নারী পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক। তারা কখনো সমান হতে পারবে না৷ সেই নারীরা পুরুষের মতো রাস্তায় উদাম বুকে চলাফেরা করতে চায়, ছোট চুল রাখে, তারা পুরুষদের মতো বাইরে বাইরে থাকতে চায়, ধুমপান করতে চায় কিন্তু নারীরা যে ঘরের সৌন্দর্য সেটা তারা বুঝে না৷ ইসলাম ধর্মে একজন মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত দেওয়া হয়েছে৷ আবার একজন সন্তান কাকে বেশি গুরুত্ব দিবে তার তালিকাতে প্রথম তিনবারেই মায়ের নাম আর তারপর বাবার নাম নেওয়া হয়েছে। একটা মেয়েকে এত সম্মান দেওয়ার পরও তারা পুরুষের সমতুল্য হতে চায়,তাদের মতো করে চলতে চায়। ছবি: অনেক আগে থেকেই গ্যালারিতে ছিল,সোর্স মনে নাই৷। নারীবাদীদের স্লোগান এমন হওয়া উচিত যে আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই,স্বামীর কাছ থেকে পূর্ন অধিকার চাই, বাবার সম্পত্তি থেকে আমি না চাইলে আমার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, আমি আমার নিরাপত্তা চাই এমনটা হওয়া উচিত ছিল। এখনকার নারীবাদীদের ব্যাপারটা এমন যে স্বামীর সেবা করলে সেটা হয় দাসীবৃত্তি আর বসের সেবা করলে সেটা হচ্ছে স্বাধীনতা। 

 4). নাস্তিকতা। অনেক মেয়েরা আছে যারা মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও আল্লাহতে বিশ্বাসী না তাই তারা ইসলামের কোন নিয়ম মানতে রাজি না৷ এরাও হিজাবে সমর্থন করে না। এগুলা হচ্ছে মূখ্য কারণ হিজাব না করার জন্য এছাড়াও কিছু গৌণ কারণ আছে যেমন পরিবেশ, বন্ধুবান্ধবের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া ইত্যাদি৷

Wednesday, April 28, 2021

পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান পৃথক করার পরিকল্পনা ছিল ভারতের

 পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা হয় ভারতে। এ ব্যাপারে শুধু ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’এর কর্মকর্তারারই শুধু মুখ খুলেনি, মুখ খুলেছে বাংলাদেশের বহু নেতাও। যেমন এক কালের নেতা ও পরবর্তীতে জাতীয় লীগ নেতা জনাব অলি আহাদ বলেন, “১৯৬২ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থানকালে ময়মনসিংহ নিবাসী রাজবন্দীদ্বয় আব্দুর রহমান সিদ্দিকী ও আবু সৈয়দের নিকট হইতে আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিষয়াদী অবগত হই।

ভারতে মুদ্রিত বিচ্ছিন্নতাবাদ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন ময়মনসিংহ ও বিভিন্ন জেলায় বিতরণকালেই তাহারা গ্রেফতার হইয়াছিলেন।”-(অলি আহাদ)। ইতিহাসের নামে যে মিথ্যাচার ছড়ানো হয়েছে তা হল, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে বাংলাদেশের সৃষ্টি মূলতঃ মুক্তিবাহিনীর অবদান। ভারতের নাম তারা সহজে মুখে আনতে চায় না। ইতিহাসের পাঠ্য পুস্তকে মুক্তিবাহিনীর সেক্টর কমান্ডারগণ কে কথায় লড়াই করেছেন সে বিবরণ থাকলেও ভারতীয় বাহিনীর হাজার হাজার সৈন্য কোথায় কি ভাবে যুদ্ধ করলো তার সামান্য বিবরণও নেই। বিবরণ নেই ভারতীয় বিমান ও নৌবাহিনীর ভূমিকার। স্কুলের পাঠ্যবইয়ে কোন উল্লেখ সে যুদ্ধে কতজন ভারতীয় সৈন্য প্রাণ দিয়েছে। মুক্তিবাহিনীর অবদান অবশ্যই আছে, তবে তারাই মূল নয়।

সত্য হলো, মুক্তিবাহিনীর পক্ষে ৯ মাসে পুরা বাংলাদেশ দুরে থাক একটি জেলা, একটি মহকুমা বা একটি থানাও মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। মূল লড়াই লড়েছে ভারতীয় সেনা বাহিনী। তবে ভারত শুরু থেকেই একটি মুসলিম দেশ ভাঙ্গার অপরাধ নিজ কাঁধে নিতে চায়নি। কারণ এটি আন্তর্জাতিক আইনের খেলাপ। 



তাছাড়া এমন কাজ তখন অন্যদেরও বৈধতা দিবে ভারত-ভাঙ্গার কাজে অংশ নেওয়ার। ইতিহাসে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এ ভয়ে নিজেদের অর্থ, অস্ত্র ও লোকবলদ্বারা পরিচালিত পাকিস্তান ভাঙ্গার এ যুদ্ধকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বলে চালানোর চেষ্টা করেছে আগে । আর এখন সরাসরি বলছে বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের যুদ্ধ হয়নি বরং যুদ্ধ হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে ১৯৯৭১ সালে!?? ভারত এমন একটি রাষ্ট্র যাদের মিথ্যাচার প্রতারণা ও মুসলিম বিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক মনোভাব রক্তে মিশে আছে।