Thursday, April 22, 2021

মুসলমানদের শেষ নবী সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল ((প্রমাণদসহ))

১) রবীন্দ্রনাথের কাছে মুসলমানদের নবী’র জীবন চরিত কখন ভালোলাগতো না। এ সম্পর্কে মোতাহার হোসেন চৌধুরী শান্তি নিকেতনেকবি রবীন্দ্রনাথকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আপনার লেখায় ইসলাম ওবিশ্বনবী সম্পর্কে কোনো কথা লেখা নেই কেন? উত্তরে কবিবলেছিলো, 'কোরআন পড়তে শুরু করেছিলুম কিন্তু বেশিদূর এগুতেপারিনি আর তোমাদের রসুলের জীবন চরিতও ভালো লাগেনি।

 [তথ্যসূত্র: বিতণ্ডা, লেখক সৈয়দ মুজিবুল্লা, পৃ -২২৯ ]" 

 ২) উপন্যাস ‘গোরা’ রবীন্দ্রনাথ বলেছিলো: ভালো মানুষী ধর্ম নয়; তাতেদুষ্ট মানুষকে বাড়িয়ে তোলে। তোমাদের ‘মুহম্মদ’ সে কথা বুঝতেন,তাই তিনি ভালো মানুষ সেজে ধর্মপ্রচার করেননি।”

 ৩) প্রবন্ধ ‘বীর গুরু’তে রবীন্দ্রনাথ বলেছে: "দেব-দৈত্য সকলেই নিজেরউপাসনা প্রচলিত করিতে চায়; গোরখনাথ রামানন্দ প্রভৃতি ধর্মমতেরপ্রবর্তকেরা নিজে নিজে এক-একটা পন্থা বাহির করিয়া গিয়াছেন।ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করিবার সময়ে মুহম্মদ নিজের নাম উচ্চারণকরিতে আদেশ করিয়া গিয়াছেন।” 


 উল্লেখ্য মুখে ব্রাহ্ম ধর্ম বলে দাবি করলেও রবীণ্দ্রনাথ ছিলো গোড়া হিন্দুত্ববাদী। এজন্য নিজ এলাকা শিলাইদহে গরু জবাই নিষিদ্ধ করেছিলো সে এবং পূজারব্যয় বহন করতে মুসলমান প্রজাদের বাধ্য করতো। (সূত্র: বাংলাএকাডেমীর ত্রৈ মাসিক “উত্তরাধিকার” পত্রিকায় (বৈশাখ- আষাঢ়১৩৯৩) প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে ডক্টর আহমদ শরীফ বিষয়টি দালিলিক প্রমাণসহ বিবরন দিয়েছে।

Tuesday, April 20, 2021

রবীন্দ্রনাথ কি মুসলমানের পক্ষে ছিল


প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে প্রতাপাদিত্যের মুখ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলাচ্ছেন- “খুন করাটা যেখানে ধর্ম, সেখানে না করাটাই পাপ। যে মুসলমান আমাদের ধর্ম নষ্ট করেছে তাদের যারা মিত্র তাদের বিনাশ না করাই অধর্ম।” ‘রীতিমত নভেল’ নামক ছোটগল্পে মুসলিম চরিত্র হরণ করেছেন – “আল্লাহো আকবর শব্দে বনভূমি প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছে। একদিকে তিন লক্ষ যবন (অসভ্য) সেনা অন্য দিকে তিন সহস্র আর্য সৈন্য। … পাঠক, বলিতে পার … কাহার বজ্রমন্ডিত ‘হর হর বোম বোম’ শব্দে তিন লক্ষ ম্লেচ্ছ (অপবিত্র) কণ্ঠের ‘আল্লাহো আকবর’ ধ্বনি নিমগ্ন হয়ে গেলো। ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুব নক্ষত্র ” রবীন্দ্রনাথ তার ‘কণ্ঠরোধ’ (ভারতী, বৈশাখ-১৩০৫) নামক প্রবন্ধে বলেন, “কিছুদিন হইল একদল ইতর শ্রেণীর অবিবেচক মুসলমান কলিকাতার রাজপথে লোষ্ট্রখন্ড হস্তে উপদ্রবের চেষ্টা করিয়াছিল। তাহার মধ্যে বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে- উপদ্রবের লক্ষ্যটা বিশেষ রুপে ইংরেজদেরই প্রতি। তাহাদের শাস্তিও যথেষ্ট হইয়াছিল। প্রবাদ আছে- ইটটি মারিলেই পাটকেলটি খাইতে হয়; কিন্তু মূঢ়গণ (মুসলমান) ইটটি মারিয়া পাটকেলের অপেক্ষা অনেক শক্ত শক্ত জিনিস খাইয়াছিল।” ঐতিহাসিক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদারকে তাই লিখতে হলো – “হিন্দু জাতীয়তা জ্ঞান বহু হিন্দু লেখকের চিত্তে বাসা বেঁধেছিল, যদিও স্বজ্ঞানে তাঁদের অনেকেই কখনই এর উপস্থিতি স্বীকার করবে না। এর প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ভারতের রবীন্দ্রনাথ যাঁর পৃথিবীখ্যাত আন্তর্জাতিক মানবিকতাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কিছুতেই সুসংগত করা যায় না। তবুও বাস্তব সত্য এই যে, তার কবিতাসমূহ শুধুমাত্র শিখ, রাজপুত ও মারাঠাকুলের বীরবৃন্দের গৌরব ও মাহাত্ম্যেই অনুপ্রাণিত হয়েছে, কোনও মুসলিম বীরের মহিমা কীর্তনে তিনি কখনও একচ্ছত্রও লেখেননি। যদিও তাদের অসংখ্যই ভারতে আবির্ভূত হয়েছেন।” (সূত্রঃ Dr. Romesh Chandra Majumder, History of Bengal, p 203.) যারা রবীন্দ্রনাথকে সর্বজনীন কবি হিসাবে গ্রহণ করতে চান, দয়া করে বলুন – মুসলিমদের অপমান করে,হত্যার উস্কানি দিয়ে এবং হিন্দুত্বের নিবেদিত প্রচারক হয়েও তিনি কোন বিচারে সর্বজনীন?

Monday, April 19, 2021

সাবেক ডাকসু ভিপি নুরের রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে

ভিপি নুরকে নিয়ে সরকার সমর্থক ও সরকার বিরোধী গোত্রে একটা ধোঁয়াশা দানা বেঁধে আছে বেশ অনেক দিন হতেই। সে সব ধোঁয়াশাকে আর গাড় করে এগিয়ে যাচ্ছেন ভিপি নুর।


[1] যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নূরের একজন ত্যাগী সহযোদ্দা তারেক রহমান কাল তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন :"কেন ভিপি নুর ভিন্ন রকম এক নেতৃত্ব?"

ভিপি_নুরের_১০টি_গুনঃ

১. সবচেয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন।

২. কর্মীদের মানসিক অবস্থা দ্রুত ট্রেস করতে পারেন।

৩. কাউকে চির শত্রুর কাতারে ফেলেন না আবার কাউকে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করেন না।

৪. তাকে চাপ দিয়ে দ্রুত কিছু করাতে পারবেন না, আবার আপনি বুঝে ফেলার আগেই কিছু করে বসবেন।

৫. কাউকে হতাশ করেন না, আবার কাউকে উজার করে সব দিয়ে দেন না।

৬. ধৈর্য ধরে তৃণমূল পর্যন্ত যোগাযোগ রাখেন, আর কর্মীদের নাম মনে রাখেন।

৭. কখনো কারো দ্বারা উপকৃত হলে তা ভোলেন না, আর সময় অসময় তাকে সম্মানিত করেন। আবার উপকার করে তাকে কেউ বিনিময়ে কোন স্বার্থ উদ্ধার করতে পারবে না ভিপি নুরের কাছে।

৮. সাংগঠনিক পরিবেশে সিদ্ধান্তের প্রতি অটল, আবার গণতান্ত্রিক উপায়কে স্বাগত জানিয়ে অটল সিদ্ধান্তও নমনীয় করেন সময় ভেদে।

৯. আর্থিক বিষয়ে সাংগঠনিক খরচসমূহ পয়েন্ট টু পয়েন্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেন এটা তাকে সকল ব্লেম হতে বাঁচিয়ে দেয়।

১০. অপ্রিয় হলেও সত্য বলে দেন সবার মুখের উপর, কিছু ক্ষেত্রে কিছু মানুষ অখুশি হলেও, সামগ্রীক বিবেচনায় তাকে দীর্ঘ মেয়াদে একটা বিশ্বাসযোগ্য জায়গায় নিয়ে যায়।

ভিপি নুর সামনে কি করবেন তা সময় বলে দেবে।আমার অবজারভেশন তাকে আরো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে যদি গণতন্ত্রের জন্য বড় কোন গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে চান। মানুষ তাকে প্রতিটি পদে পদে অবজারভ করছে, তার প্রতিটি কথা শুনছে আর মেপে মেপে সত্যতা যাচাই করছে।

এখন পর্যন্ত অবিশ্বাসের কিছুই আমরা খুজে পাই নাই, যদিও বিএনপি বলছে, সরকারের সাথে সমঝোতা করে চলেন তিনি। আবার আওয়ামিলীগ বলে, বিএনপি জামাতের সাথে যোগ সাজ করে আন্দোলন করে ভিপি নুর।

এখন পর্যন্ত বার বার নির্যাতনের শিকার হয়েও পুনরায় মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকাটায় পাব্লিকের কাছে এখন তিনি একটা মিথোলজি ।

জাতি অপেক্ষার প্রহর গুনছে, কখন এই মিথোলজি সত্য হবে। তারা চায় এই মিথ কেটে গিয়ে সত্যিকারের একজন গণ মানুষের নেতা হয়ে উঠুক ভিপি নুর।

প্রশ্নটি ছিল:সাবেক ডাকসু ভিপি নূরের রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যত কেমন হতে পারে বলে মনে করেন?

কাবা শরীফ কি পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, প্রমান ও যুক্তি দিয়ে বোঝাব

প্রথমত, এই ধরণের কথার কোনো ভিত্তি নেই৷ কাবা শরীফ পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, এমন কথা কুরআনের কোথাও বলা হয়নি৷ হাদিসেও পাওয়া যায়না৷ পুরোটাই বানোয়াট৷ মুসলমান হিসেবে ঈমানের যে মূল সাতটি বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক, তার ভিতর কাবা শরীফ পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, এটি অন্তর্ভুক্ত নয়৷ সুতরাং, এটা বিশ্বাস না করলে আপনি কাফের হয়ে যাবেননা৷

দ্বিতীয়ত, গোলাকার (গোলকাকার) জিনিসের পৃষ্ঠের প্রতিটা বিন্দুকেই কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা যায়৷ একটা ফুটবলের পৃষ্ঠের প্রতিটা বিন্দুতেই কেন্দ্র৷ অবশ্যই আমরা এখানে পৃথিবীর অভ্যন্তরেে অবস্থিত কেন্দ্রের কথা বলছিনা৷ বরং, তা পৃষ্ঠের কেন্দ্র৷ সুতরাং, সেই হিসেবে কাবা শরীফ পৃথিবী পৃষ্ঠের কেন্দ্র বিবেচিত হলে দোষের কিছু নেই৷


যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়েছেন, তারা জানেন, মহাবিশ্বের কোনো কেন্দ্র নেই৷ কথাটিকে অন্যভাবে বললে, প্রতিটি বিন্দুই মহাবিশ্বের কেন্দ্র৷ (যারা এর ব্যাখ্যা জানেননা, তারা নিজ দায়িত্বে জেনে নিবেন৷) সেই হিসেবে কাবা শরীফ শুধু পৃথিবীর কেন্দ্রই নয়, বরং মহাবিশ্বের কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে৷ আপনি গাণিতিকভাবে হিসাব করলেও এটা ভুল নয়৷

তৃতীয়ত, ভোগলিকভাবে বিবেচনা করলে আসুন বিশ্বমানচিত্রে কাবা শরীফের অবস্থান দেখে নেই—


ছবিতে লাল ফোটা চিহ্নিত স্থানটি কা\"বা শরীফ৷ ভৌগলিক মানচিত্রের অনুসারে পৃথিবী পৃষ্ঠের কেন্দ্র হল 0° অক্ষরেখা ও 0° দ্রাঘীমা রেখার মিলনস্থল৷ সেটা আফ্রিকা মহাদেশের পশ্চিম অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল বর্তী একটি স্থান৷ কিন্তু, যদি জলভাগটুকু বাদ দিয়ে পৃথিবীর স্থলভাগটুকুকে কল্পনা করেন, তবে মোটামুটিভাবে মক্কায় অবস্থিত কা\"বা শরীফ স্থলভাগের মাঝখানে অবস্থিত হয়৷ কাকতলীয় হলেও আন্তর্জাতিক ম্যাপের স্থলভাগের প্রায় মাঝখানেই এটি পড়ে৷ তবে পুরো পুরি মাঝখানে মনে হয়না৷

মানচিত্রে আরেকটি স্থান লাল ডট দ্বারা চিহ্নিত; সেটি হল বাইতুল মুক্বাদ্দাস, ফিলিস্তীন৷ যদি সাতটি মহাদেশ পরস্পর সংলগ্ন করা হয়; তবে দেখতে পাবেন, কা\"বা শরীফের চেয়ে বাইতুল মুক্বাদ্দাসই মাঝখানে হওয়ার দাবীদার৷ আর যারা জানেন, তারা জানেন যে বাইতুল মুক্বাদ্দাস মুসলমানদের প্রথমিক কিবলা ছিল৷ পরবর্তীতে মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা বাক্বরাহর একটি আয়াতে কা\"বা শরীফকে কিবলা হিসেবে ঘোষণা করেন৷ তখন থেকেই মহানবী (স) ও তার সাহাবীগণ কাবা শরীফের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করা আরম্ভ করেন৷

চতুর্থত, এগুলো কেবল আনুমানিক একটা হিসাব, যা মানচিত্রে তাকালে আমরা দেখতে পাই৷ একেবারে পূঙ্খাণুপূঙ্খ হিসাব পেতে খাতা কলম আর কম্পিউটার নিয়ে ভূমি জরিপের কাজে নেমে পড়ুন৷ অতঃপর প্রপ্ত ফলাফল আমাকে জানানোর অনুরোধ রইল৷ প্রশ্ন কর্তা প্রমাণ ও যুক্তি চেয়েছেন, আমি তাই সপক্ষে কিছু প্রমাণ ও যুক্তি দিলাম৷ যদি বিপক্ষে যুক্তি চান, তাও দেওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ৷ তবে, এসব গৌণ বিষয় নিয়ে মারামারি করার কিছু নেই৷