Thursday, May 6, 2021

হাদিসে মন কে মাংস পিন্ড বলা হয়েছে। আসলেই মন মাংস পিন্ড

জেনে রেখ, মানুষের দেহের মধ্যে এক খন্ড মাংশ পিন্ড আছে, যখন তাহা সংশোধিত হয়, তখন সমগ্র দেহ সংশোধিত হয়ে যায়। আর যখন তা দুষিত হয় তখন সমগ্র দেহটাইত দুষিত হয়ে যায়। মনে রেখ ওটাই ক্বলব।” ( বোখারী ও মুসলিম শরীফ)। 

 এই হাদিসের বিষয়েই সম্ভবত প্রশ্নটি করা হয়েছে৷ তরজমাকারী হাদিসের তরজমা করতে গিয়ে এখানে 'মন' শব্দটি ব্যবহার করেছেন৷ মন তো বাংলা শব্দ৷ আরবী যেটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হল قَلْبٌ (ক্বলব) যার বাংলা প্রতিশব্দ হল হৃদয়, হৃদপিণ্ড, অন্তর, মন, অন্তঃকরণ, ইত্যাদি এবং ইংরেজী প্রতিশব্দ হল Heart, Mind, ইত্যাদি৷ 


 আপনি জানতে চান, ক্বলব নামে কোনো মাংসপিন্ড মানবদেহে সত্যিই আছে কিনা? আপনি যদি এনাটমি পড়েন, তবে দেখবেন— এই অঙ্গটি মানুষের শরীরের ভিতর থাকে৷ যাকে হৃদপিণ্ড (Heart) বলা হয়৷ এটি মানুষের বুকের ভিতর থাকে৷ এখানে ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন বুকের ভিতর হৃদয় বা হৃদপিণ্ড, যাকে আরবী তে ক্বলব (قلب) বলা হয়৷

 সুতরাং, মানুষের শরীরে ক্বলব নামে মাংসপিণ্ড সত্যিই বিদ্যমান, যার কথা হাদিসে বলা হয়েছে এবং কুরআনেও বলা হয়েছে৷ তবে আপনার শরীরে হৃদপিণ্ডের উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্য এনাটমি না পড়লেও চলবে৷ আপনার বুকে হাত রাখুন, তাহলেই হৃদপিন্ডের কম্পন অনুভব করবেন৷ ক্বলব শব্দের অর্থ তা নির্ভর করেে এর ব্যবহারের উপর৷ 

যেমন প্রাণিবিদ্যার আলোচনায় 'ক্বলব' বলতে অবশ্যই হৃদপিণ্ড বা Heart কে বুঝায়৷ কবি সাহিত্যিকদের ভাষায় ক্বলব বলতে 'মন' বা 'mind' অথবা 'হৃদয়' বা Heart কে বুঝায়৷ "কত কবি সাহিত্যিক তাদের কবিতা, গল্প, উপন্যাসে তাদের মনের ভাষা ব্যক্ত করেন" "হৃদয় গভীরে তুমি আছো" "মনের কথা চেপে রাখা অত্যন্ত কঠিন" "হৃদয় উজাড় করে দিয়েছি যা ছিল সবই" এসব বাক্যে মন বা হৃদয় শব্দ দুটির ব্যবহরিক প্রয়োগ দেখানো হয়েছে৷ আমরাও দৈনন্দিন কথাবার্তায় মন বা হৃদয় বলতে হৃদপিণ্ডকে বুঝিয়ে থাকি৷ "

এই মন সর্বদা তোমাকেই ভাবে" এমন কথা বলার সময় আমরা হাত দিয়ে আমাদের বুকের দিকেই ইঙ্গিত করি; যেন মন আমাদের বুকের ভিতরই অবস্থিত৷ আমাদের ভাষার এধরণের প্রয়োগগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখবেন মানুষের হৃদপিণ্ডই 'মন', হৃদয় কিংবা 'অন্তর' এর প্রতিনিধিত্ব করে৷ হাদিসে যে ক্বলব শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, সে ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে৷ যদিও "মাংশপিণ্ড" দ্বারা এনাটমিকাল হার্ট বা "হৃদপিন্ড" কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, 
কিন্তু, এর দ্বারা মানুষের মন বা হৃদয়কে বুঝানো হয়েছে৷ কিন্তু, এটাতো ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারিক দিক। বৈজ্ঞানিক দিক থেকে 'মন' বা Mind শব্দটির একটা সমস্যা আছে৷ দৈনন্দিন ব্যবহারে আমরা 'মন' বলতে হৃদয়কে বুঝালেও বৈজ্ঞানিক বিবেচনায় বা প্রকৃত পক্ষে 'মন' দ্বারা মস্তিষ্ককে বুঝায়৷ 

অর্থাৎ, 'মন' Mind দ্বারা মানুষের ব্রেইন, মস্তিষ্ক, স্মৃতীকে বোঝায়৷ যেমন: "আমার মনে নেই" কথাটির অর্থ "আমার স্মরণ নেই"৷ যা মানুষের ব্রেইনের সাথে সংশ্লিষ্ট৷ "সে মনে মনে ভাবছে" অর্থাৎ, সে মনে মনে চিন্তা করছে৷ অবশ্যই এখানে 'মন' শব্দটি ব্রেইন বা মস্তিষ্কের প্রতিনিত্ব করছে৷ 


কিন্তু, ব্রেইন কোনো মাংসপেশি নয় এবং ব্রেইনের আরবীও ক্বলব নয়৷ আরবী ٌعَقْل বা আক্বল শব্দটি দ্বারা ব্রেইন, বুদ্ধি, জ্ঞান ইত্যাদি বুঝানো হয়৷ হৃদপিন্ডই হল মাংসপেশি৷ সুতরাং, হাদিসে উল্লেখিত ক্বলব قلب বা বাংলায় 'মন' দ্বারা হৃদপিণ্ড নামক অঙ্গকে বুঝানো হয়েছে এবং সেটা ভাষাগত দিক বিবেচনায় রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে৷

Monday, May 3, 2021

গভীর রাতে কুকুর ডাকে কেন??

কুকুর গভীর রাতে কান্না করার পিছনে অনেক গুলো কারণ দেখানো যায়। 


সাধারণ মানুষের চিন্তা, আধ্যাত্মিক মতবাদ এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক মতবাদ রয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞানের তথ্য গ্রহনযোগ্য। 
 দাদু, ঠাকুমা বা আমাদের গুরুজনদের কাছ থেকে এটা শুনে অভ্যস্ত যে কুকুর কাঁদা মানে কারও মৃত্যু আসন্ন। এ তো গেল ধারণা বা ‘সংস্কার’। 
 এ ব্যাপারে জ্যোতিষীদের, তাঁদের মতে, কুকুর তখনই কাঁদে যখন আশপাশে কোনও ‘অশরীরী আত্মা’ ঘুরে বেড়ায়। 

যা সাধারণ মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়, সেটার উপস্থিতি টের পায় কুকুররা। তাই তাদের কাছেপিঠে ‘আত্মা’ ঘুরে বেড়ালেই কুকুর নাকি কাঁদতে শুরু করে। আর কুকুর কাঁদলেই লোকজন তখন তাদের তাড়ানোর চেষ্টা করে। তাই তাদের কাছেপিঠে ‘আত্মা’ ঘুরে বেড়ালেই কুকুর নাকি কাঁদতে শুরু করে। আর কুকুর কাঁদলেই লোকজন তখন তাদের তাড়ানোর চেষ্টা করে। 

 এ তো প্রচলিত ধারণা বা জ্যোতিষীদের কথা। এ ব্যাপারে বিজ্ঞান কী বলছে, বিজ্ঞান বলছে, কুকুর কাঁদে না। ওরা ও ভাবে ডাকে। রাতে এ ভাবে আওয়াজ করে দূরে তার সঙ্গীদের কাছে কোনও বার্তা পৌঁছনোর চেষ্টা করে। 

এ ছাড়া এ ভাবে আওয়াজ করে তার অবস্থানটা সঙ্গীদের জানায়। দ্বিতীয়ত, ওরা প্রাণী। ওদেরও চোট-আঘাত লাগতে পারে। ব্যথা হতে পারে। শরীরে কোনও কষ্ট হতে পারে। সেই পরিস্থিতিকে জানান দিতেই ও ভাবে আওয়াজ করে সঙ্গীদের ডাকে।

 তৃতীয়ত, কুকুররা একা থাকতে পছন্দ করে না। তাই যখনই একাকিত্ব বোধ করে, তখনই সঙ্গীদের ও ভাবে আওয়াজ করে ডাকে।