Wednesday, April 14, 2021

আপনি কি নিজ দেশের বাইরে বিদেশিদের মুখে " বাংলাদেশের " নাম শুনে চমকে গিয়েছিলেন!








আজিজ চৌধুরী
চৌধুরী সপ্তাহান্তে 77 বছর বয়সে মারা গেলেন। (আদ্দেল হালিম / সিবিসি)
২০১৭ সালে শান্তির প্রতীক হিসাবে বাংলাদেশ পিস ক্লকটি অনুদান দেওয়ার সময় 77 বছর বয়সী আজিজ চৌধুরী উইন্ডসরকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এবং মঙ্গলবার বিকেলে তাকে শায়িত করা হয়।

প্রাক্তন উইন্ডসর পাবলিক লাইব্রেরি লাইব্রেরিয়ান উইকএন্ডে মারা গেলেন। তাঁর পরিবার ব্যাখ্যা করেছেন যে তাঁর অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল।

চৌধুরীকে সম্মান জানাতে কয়েকশ মঙ্গলবার উইন্ডসর মসজিদে সমবেত হয়েছিল। যারা তাঁকে চিনত তারা বলেছিল যে তিনি সর্বদা তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি অনুগত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন


\"একজন মহান মানুষ\"
"কানাডা অ্যাসোসিয়েশন ফর উইন্ডসর-এসেক্সের সভাপতি সাইফুল ভূঁইয়া বলেছেন," তিনি সম্ভবত আমার সারাজীবন দেখেছি এক দুর্দান্ত, সেরা ব্যক্তি। "

বাংলাদেশ পিস ক্লক
চৌধুরী শান্তির প্রতীক হিসাবে ২০১০ সালে ঘড়িটি দান করেছিলেন। (কেটারিনা জর্জিভা / সিবিসি)
"তিনি দুর্দান্ত ব্যক্তি। আমরা তাকে হারিয়েছি এবং আমরা সত্যিই তাকে মিস করছি এবং আমি জানি যে তিনি যখন এখানে নেই তখন তাঁর জায়গাটি পুনরুদ্ধার করা খুব কঠিন।"

২০১০ সালে, তিনি শান্তি ঘড়িটি তৈরি করতে শহরটিকে $ 30,000 অনুদান দিয়েছিলেন, যা ওয়ায়ানডোট স্ট্রিট এবং ওয়েললেট অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। তিনি বলেছিলেন যে তিনি শহরে শহরে হাঁটতে গিয়ে এই ধারণাটি পেয়েছিলেন এবং লোকেরা সময় চাইতে চেয়েছিলেন।



একটি সম্প্রদায় কেন্দ্রের জন্য আশা
তাঁর কন্যা সালমা চৌধুরী ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে 1979 সালে তাঁর বাবা বাংলাদেশ থেকে প্রথম শহরে ফিরে আসা প্রথম বাঙালির একজন ছিলেন এবং তিনি অনেকের কাছেই তিনি পরিচিত।

তিনি বলেছিলেন যে তাঁর বাবা সর্বদা সম্প্রদায়ের জন্য ভাল কাজ করার জন্য নিবেদিত ছিলেন - যেমন উইন্ডসর মসজিদটি বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে সহায়তা করে।

বিজ্ঞাপন


সালমা চৌধুরী বলেন, "আমি মনে করি যে লোকেরা তাকে চিনত, তাকে ভাল করে জানত এবং তিনি ঠিক কীভাবে ছিলেন তাও তারা জানেন। তাঁর অনেক ভাল উদ্দেশ্য ছিল এবং তিনি এটি অনেকটা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন," সালমা চৌধুরী বলেছিলেন।

সালমা চৌধুরী
সালমা চৌধুরী বলছেন, তার বাবা 30 বছরেরও বেশি সময় আগে উইন্ডসর চলে আসা বাংলাদেশ থেকে প্রথম বাঙালিদের একজন। (কেটারিনা জর্জিভা / সিবিসি)
"তিনি অনেক কিছু করেছেন। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরেও তিনি দেশে ফিরে স্কলারশিপ এবং জিনিসপত্র পেয়েছেন। আর আমরা কেবল আশা করি যে উপরের দিকের লোকটি তার জন্য পুরস্কৃত করবে।"

ভুঁইয়া বলেন, জনগোষ্ঠীর প্রতি তার আশার মধ্যে আজিজ চৌধুরী এমন একটি বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করতে চেয়েছিলেন যেখানে লোকেরা জড়ো হতে পারে।

তিনি আরও যোগ করেছেন যে তিনি কোনও দিন তার বন্ধুর পক্ষে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করতে চান।

সিবিসির সাংবাদিকতার মান এবং অনুশীলনগুলি
টাইপ বা ত্রুটি রিপোর্ট করুন.

Sunday, April 11, 2021

বাংলাদেশ কবে পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তালিকায় নাম লেখাবে ???

যারা পত্রিকার শিরোনাম পড়েই পুরো সংবাদ জেনে ফেলার মত জ্ঞান রাখেন, চোখের সামনের ঘটনা বিশ্বাস করেন অথচ আড়ালে কী থাকে তা জানার বা বিশ্লেষণের চেষ্টা করেন না, ম্যাচিউরড এবং তথ্যবহুল জিনিসপত্র থেকে ১০০ গজ দূরে থাকুন নীতিতে বিশ্বাসী, চায়ের দোকানে বসে দলগত ভাবে রাজনীতিতে রিসার্চ করা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত বিশ্লেষক এবং ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রী ফায়ার বা পাবজি থেকে মিলিটারি সায়েন্সে গ্রাজুয়েশন করা কোরা মিত্রদের জন্য আমার এই লেখা নয়। আমার মত দু-চার জন মূর্খ মানব সন্তানের জন্যে এই উত্তরখানা প্রকাশ করছি।

বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৪তম পারমানবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে নাম ইতিমধ্যে লিখে ফেলেছে। ১৯৬৪ সালেই হয়ত আমরা এই সফলতা অর্জন করতাম, যদি না করাচি বন্দের আমাদের সমস্ত রসদ আটকে না যেত।

পরমানু ক্লাবের ৩৪ তম সদস্য হলেও উৎপাদন সক্ষমতায় আমরা ২০ নম্বরে চলে আসবো খুব দ্রুতই।


মূলত পারমানবিক শক্তিকে দুইভাবে কাজে লাগানো যায়। এক শান্তিপূর্ণ ভাবে আর দুই যুদ্ধাস্ত্র তৈরীর কাজে। তার মধ্যে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণভাবে এই শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।

ভারত বা পাকিস্থানের মত বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে যুদ্ধাস্ত্র তৈরীর কোন প্রয়োজন বা সময় এখনো বাংলাদেশের আসেনি।

প্রশ্নকর্তা যদি প্রশ্নের দ্বারা পারমানবিক অস্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করেন তাহলে পুরো লেখাটা পড়তে পারেন। কেননা অধিকাংশই পারমানবিক শক্তিধর হিসেবে পারমানবিক বোম সমৃদ্ধ দেশকে বোঝান।

এ ব্যাপারে জানার আগে জানতে হবে পারমানবিক অস্ত্রের দিকে বিভিন্য দেশের এত আগ্রহ কেন? এই ব্যাপারটা জটিল, পরিবর্তনশীল এবং সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ। Nuclear Age Peace Foundation এর এমিরাট চেয়ারম্যান ডেভিড ক্রিগার মনের করেন পারমানবিক অস্ত্রের দিকে আগ্রহী হওয়ার জন্য ৪ টি নীতি কাজ করে।


ছবিঃ ডেভিড ক্রিগার; ইন্টারনেট।

১। ভয়

২। নিরাপত্তা

৩। নিজ দেশের গুরুত্ব বাড়াতে এবং অন্য দেশকে কাউন্টার করতে

৪। সম্মান

এর বাইরে উত্তর কোরিয়া পঞ্চম এবং অন্য একটি নীতি অনুসরণ করে নিজেদের নিউক্লিয়ার স্টেট হিসেবে দাড় করিয়েছেন। নিজদের সুরক্ষিত রাখতে এবং অর্থনৈতিক দরকষাকষিতে সুবিধাভোগের জন্য উত্তর কোরিয়া পারমানবিক প্রকল্প অব্যাহত রেখেছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে নিউক্লিয়ার স্টেট এর বাইরেও এমন অনেক দেশ আছে যারা অর্থনৈতিকভাবে একটা দুইটা প্রকল্প পরিচালনা করতে সক্ষম। যেমন বাংলাদেশ, দক্ষিন এশিয়ার এই দেশটা নিঃস্বন্দেহে প্রমিজিং এবং ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটা দেশ। বাংলাদেশ হয়ত চাইলে ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল না হলেও আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপ যোগ্য নিউক্লিয়ার ওয়র হেড বিশিষ্ট স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরী করতে পারে। কিন্তু আজকাল স্বল্প বা মাঝারি পাল্লার মিসাইল দিয়ে কাজ হবে বলেন?? যেখানে সবাই আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহার করছে।

কেন অনান্য দেশ পারমানবিক অস্ত্র তৈরীতে মন দিচ্ছেনাঃ

১। প্রযুক্তিগত স্বল্পতা। শুধুমাত্র এই কারণ ৪৪ টির মত দেশ পারমানবিক প্রকল্প থেকে পিছিয়ে এসেছে।

২। সুরক্ষা জোট। অনেক দেশরই কোন নির্দিষ্ট জোটের অংশ না হওয়াতে এদিক থেকে পিছিয়ে আছে। যেমন নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর জোটভুক্ত দেশগুলো একে অপরকে নিরপত্তা প্রদান করে।

৩। নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি। অর্থ্যাৎ NPT যার মাধ্যমে পারমানবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রন ও নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই সংস্থার নন-নিউক্লিয়ার স্টেট সদস্যরা কোন অস্ত্র তৈরী করতে পারবেনা বলে চুক্তিবদ্ধ।

৪। Nuclear Weapons-Free Zone (NWFZ) চুক্তি। এই চুক্তির আওয়তা ভুক্ত দেশ সমূহের অধিকাংশই দক্ষিন গোলার্ধের দেশ। এই চুক্তি এখনো এ্যান্টার্ক্টিকা, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান, দক্ষিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিন আফ্রিকা এবং দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার জন্য কার্যকর আছে।

৫। নেতিবাচক ফলাফলের চিন্তা। অনেক দেশ মনে করেন পারমানবিক অস্ত্র প্রকল্প শুরু করলে তাদের অর্থনীতি দূর্বল হয়ে পড়বে, উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে, নিজেদের বন্ধু দেশ বা জোটে ভাঙন ধরবে এবং অন্য পারমানবিক অস্ত্রধারী দেশের লক্ষ্যে পরিণত হবে।

৬। জাতীয় ভাবমূর্তি। অনেক দেশই নিজেদের জাতীগত ভাবমূর্তি, অন্তঃদন্দ্ব থেকে মুক্ত থাকতে পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত বিশ্বের পক্ষে অবস্থান করে।

বাংলাদেশ কেন পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করছে না বা কিনছে না তার কারণ ব্যখা করার চেষ্টা করিঃ

১। বাংলাদেশ ১৯৭৯ সালের ৩১ আগস্ট এবং ২৭ সেপ্টেবর Non-Proliferation Treaty বা NPT চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর বাইরে জাতিসংঘের ৭২ তম সাধারণ সম্মেলনে বাংলাদেশ "নিউক্লিয়ার ডিসআর্মানেন্ট ট্রিটি" তে স্বাক্ষর করেন। কারণ বাংলাদেশ মনে করে পারমানবিক অস্ত্র কখনোই নিরাপত্তা প্রদান করতে পারেনা।

২। বলাবাহুল্য প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবলের দিক থেকে আমরা বেশ পিছিয়ে আছি।

৩। অর্থনৈতিকভাবে আমরা ভারসাম্য অবস্থানে আছি। এই মূহুর্তে আমাদের এধরণের প্রকল্প অর্থনীতিতে একটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

৪। নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ পারমানবিক অস্ত্র বানাবে এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরী হয়নি। কারণ আমরা আক্রমণের থেকে প্রতিহত করা পছন্দ করি এবং আমাদের পররাষ্ট্র নীতি "সবার প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরীতা নয়"। স্বাধীনতার পর আমরা ২০০০ সালেই অন্য কোন দেশের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যাই। দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার দেশ এবং আমাদের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের সাথে আমাদের সেই যুদ্ধ ছিল কনভেনশনাল ওয়রফেয়ার। আর পারমানবিক অস্ত্র কনভেনশনাল ওয়রফেয়ারকে নিয়ত পরিবর্তন করে যাচ্ছে। এর বাইরে আমাদের যেধরণের সিকিউরিটি থ্রেট বা নিরাপত্তা হুমকি আছে তার অর্ধেক কূটনৈতিকভাবেই সমাধান হয়ে যায়। বাকিটা কনফিডেনশিয়াল পদ্ধতিতে সমাধান হয়। সে জন্য আমাদের নিরাপত্তা অজুহাত কাজে দেবে না।

৫। অনেকে মনে করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ভালো লাগেনা। বিশেষ করে ফেসবুকের বিভিন্য ডিফেন্স গ্রুপের শতকরা ৮০ ভাগ লেখক এটাই মনে করেন। দুঃখের বিষয় এসব লেখকেরা অধিকাংশই যা দেখে তাই বিশ্বাস করে, চোখের আড়ালে ঘটা ঘটনা এরা জানেও না বিশ্লেষন ও করেনা। তো তাদের ধারণা আংশিক সত্য হলেও সেটাকে বাজে পররাষ্ট্র নীতি বলা যায় না। কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে সব সমস্যাই দ্রুত সমাধান হয় না। অফেন্সিভ নেশন বা আক্রমনাত্বক দেশগুলোর পররাষ্ট্র নীতি অনেক কার্যকর হওয়াতে অনেকে এদের নীতিকে শক্ত পোক্ত নীতি বলে মনে করেন। অথচ এই দেশগুলো একটা সমস্যা সমাধান করতে যেয়ে অনেক সময় অন্য ঝামেলা সৃষ্টি করে ফেলেন। ২০০০ সালের নাফ যুদ্ধের পর মিয়ানমারের সাথে ঘটা সমস্ত অঘটনকে কুটনৈতিক প্রটোকল দিয়েই সমাধান করা হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা সমাধান এখনো কেন হচ্ছে না, এটা বলতে গেলে আবার আমাকে বিশ্বরাজনীতিতে যেতে হবে।

৬। যেহেতু আমাদের কোন শত্রু দেশ নেই সেহেতু আমাদের ব্যাটল রেডিনেস অবস্থাতে থাকতে হয় না। মায়ানমার আমাদের শত্রু মনে করলেও কনভেনশনাল ওয়রফেয়ার, স্ট্র্যাটেজিক ওয়রফেয়ার, সাইবার ওয়রফেয়ার, ইন্টেল ওয়রফেয়ারে যথেষ্ট পিছিয়ে আছে। যদিও তাদের ব্যাটল রেডিনেস অনেক দুর্দান্ত। বছরের পর বছর নিজেদের কলহ ঠেকাতে ঠেকাতে তাদের লাইভ এ্যামিউনিশন দিয়ে লাইফ কিলিং রেকর্ড আমাদের থেকে বেশী। সেক্ষেত্রে মায়ানমার কে লক্ষ করে পারমানবিক অস্ত্রের কোন প্রয়োজন নেই।

৭। ভৌগলিক অবস্থানগত কারেন আন্তঃজাতিক ভূ-রাজনীতিতে আমরা সব থেকে বেশী এ্যাডভান্টেজ পাবো। কারণ যেহেতু আমাদের পার্শবর্তী কোন দেশই শত্রু নয় এবং তারা আমাদের পারমানবিক হামলা করলে বিপদ তাদের নিজেদেরও হবে। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। পাকিস্থানের সাথে ভারতের বিরোধ চলমান। একইভাবে চীন এবং নেপালের সাথেও চলছে। একমাত্র সাপোর্ট দেয়ার মত বাংলাদেশই নিকটবর্তী। ন্যাটোর বাইরে কোন দেশকে এমেরিকা সাপোর্ট দেবেনা। কারণ আমেরিকা এখানেও তাদের স্বার্থ খুজবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বন্ধু সেই হয় যে সুবিধা দিতে পারে।

বাংলাদেশ এমনই এক অবস্থানে আছে যেখান থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করে ভারত, চীন, পাকিস্থান, মায়ানমার, নেপাল, আফগানিস্থান, ইরান, রাশিয়ার সাথে কলাটেরাল ড্যামেজ নিয়ে যুদ্ধ জয়লাভ সম্ভব, শুধু লজিস্টিক আর ইকোনমি দাঁড়িয়ে থাকলেই চলবে। অতএব এই সুবিধা ভোগ করতে হলেও কোন দেশ আমাদের আক্রমণ করবেনা।

আলফ্রেড জন ম্যাকিন্ডারের হৃদভূমি তত্ত্ব বা কেন্দ্র ভূমি তত্ত্ব (Heartland theory) টা পড়তে পারেন। ১৯০৪ সালে রয়াল জিওগ্রাফিক সোসাইটি উনার এই তত্ত্বকে The Geographical Pivot of History নামে নিবন্ধ আকারে প্রকাশ করেন।


এই নিবন্ধটা পড়লেই বুঝবেন কেন্দ্রভূমি দখল করতে সবাই এত মরিয়া কেন? বিশ্লেষণ আর ঘাটাঘাটি করলে বাংলাদেশের সাথে এর সম্পর্কও খুজে পাবেন। অনেকে এই কেন্দ্রভূমির দখল নিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের সাথে গাজওয়াতুল হিন্দ এর কথা উল্লেখ্য করেছেন। যদিও গাজওয়াতুল হিন্দ নিয়ে যথেষ্ট ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বিতর্ক আছে।

৮। জাতিগতভাবে আমরা বেশ কিউট। রিক্সার সাথে বাইক ধাক্কা খেলে রাস্তার মাঝখানে দাড়িয় জ্যাম সৃষ্টি করেই আমরা কিউটভাবে তর্ক শুরু করে দিতে পারি। ঠিক একইভাবে সরকার কোন পদক্ষেপ নিলে এবং সেটা আমি ব্যক্তিবিশেষের মনের মত না হলে প্রতিবাদ শুরু করে দেই। আবার একই কাজ সরকার না করলে কেন করলোনা অভিযোগ দেই। এই যে এখন আমরা কেন পারমানবিক অস্ত্র নাই বলে প্রশ্ন করছি, তখন প্রশ্ন করবো আমাদের দরকার কী? আমাদের শত্রু কে? জনগণের টাকা মেরে খাওয়ার নতুন ফন্দি ফিকির ইত্যাদি ইত্যাদি।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন নিয়ে এই কোরাতেই লিখতে দেখেছি "স্যাটেলাইট শেখ হাসিনার শখের ঘুড়ি"। সাবমেরিন কেন নিয়েও আমরা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছি, অথচ যখন আমাদের সাবমেরিন ছিলনা তখনো আমরা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছি।

৯। যেহেতু উপরের বেশ কয়েক জায়গাতে বলেছি মেজর সিকিউরিট থ্রেট বা প্রায়োগিক অর্থেই আমাদের প্রতিদ্বন্দী কোন দেশ নেই সেখানে কাউন্টার করার প্রশ্ন অনেক দূরের ব্যাপার। যতটুকু থ্রেট আছে তার সবই বিভিন্যভাবে টেকল করা হচ্ছে এবং অবশ্যই তা অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে।

১০। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মেজর দুইটি জোট তৈরী হয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত। সোভিয়েত আলাদা হওয়ার পর রাশিয়া এসেছে। এখনো এই দুই জোটের অনেক গুলো ব্লক বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিনিয়ত চিন্তার নতুন পালক যুক্ত করছে। যেহেতু পারমানবিক অস্ত্রধারী দেশ হতে হলে কোন না কোন জোট দরকার, সেখানে আমরা কোন জোট এ জোট বাধবো?? রাশিয়ার সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো। রাশিয়ার সাথে ভারতের সম্পর্কও ভালো আবার বাংলাদেশের সাথে ভারতের। অন্যদিকে পাকিস্থানের সাথে আমেরিকার সম্পর্কও অনেক ভালো এবং চীনের সাথেও সম্পর্ক অনেকভালো।

বিভিন্য সময় পাকিস্থানের কারণে ভারত আর রাশিয়ার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এমনও পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে যখন ভারত দোটানায়। কাকে নেবে? রাশিয়া না আমেরিকা। বাংলাদেশ যদি পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করে তখন এই অঞ্চলে তথা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে যে ব্যপক একটা যোগ -বিয়োগ এবং নতুন চিন্তা তৈরি হবে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। যদিও একরকম ধরে নেয়া যায় রাশিয়ার সাথেই বাংলাদেশ থাকবে। আগামী কয়েক দশক রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে সমান্তরাল থাকবে তা রাজনীতির বিশ্লেষনই করে দেয়। তবে ঝামেলা পেকে যাবে অন্যখানে। চীন হয়ত চাইতে পারে বাংলাদেশ, রাশিয়া, চীন একজোট হোক। কৌশলগত কারণে চীন পাকিস্থানকেও জোটভুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। এতে হয়ত বাংলাদেশ রাজি হবেনা। অন্যদিকে রাশিয়া, ভারত আর বাংলাদেশ একজোট হলে একই সাথে চীন এর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হবে। আবার নিরাপত্তার খাতিরে বাংলাদেশ একদম একার মত থাকতে পারবে না। একটা না একটা জোটে যোগ না দিলে এই যথেষ্ট নিরাপত্তা হূমকি এবং অনান্য পারমানবিক রাষ্ট্রের লক্ষ্যে পরিনত হতে পারে।

দক্ষিন এশিয়ার এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি অনেক গোলযোগের। খুব সহজেই তালগোল পাকিয়ে দেয়। অনেকটা জেমসে এর "তুমি কার কে তোমার, কে বা আমার হবে" লাইনটার মত।

এসব দিক থেকে বিবেচনা করলে, এই অঞ্চলের রাজনীতি স্থিতী না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া আমার মনে বোকামীই হতে পারে। যদিও ডিফেন্স এ্যানালিসিস্টরা এই গুলোর প্রি-এসেসমেন্ট করেই নিবেন, যদি সেরকম কোন সম্ভাবনা থাকে।

রিজওয়ান সৈয়দ ভাই এর সংযোজনঃ

একটা মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র গোপণে যেরকম বানানো যায়, ঠিক সেরকম গোপণীয়তার সাথেই অন্য দেশের স্যাটেলাইট সেই ছবি তুলে নিয়ে যায়।

প্রতিটা নিউক্লিয়ার মিসাইল সাইলো এবং তার আশে পাশের ক্যান্টনমেন্ট এরিয়া শত্রু দেশের আরেকটা আইসিবিএম এর আওতায় থাকে।

কে চায় পারমাণবিক বোমার আওতায় থাকতে?

অযথা লোক দেখানোর জন্য কেনো এই নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বা পাওয়ার নিয়ে বাড়াবাড়ি? আমরা সবসময়ই বলে এসেছি,

নদীর এপাড়ের ঘাসগুলো সবুজ নয়, ওপারের গুলো বোধহয় খুব সবুজ।

তার মানে এই নয় যে, বোমা বানানোর ঘোষনা দিয়ে সক্ষমতার পরিচয় দিতে হবে৷

ভারত ও তার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রজেক্ট সবার চোখের আড়ালে করার চেষ্টা করেছিল। ইন্দিরা জী\"র মতো শক্ত নেত্রীকেও আমেরিকা আর পাকিস্তানের চাপে থাকতে হয়েছে।

কই! তিনি তো পরীক্ষা করবার আগ মূহুর্ত পর্যন্ত পাকিস্তানকে জানতেই দেননি। এমেরিকা শেষ সময়ে জেনেও কিছু করতে পারেনি।

প্রয়োজন সব উদ্ভাবনী ক্ষমতার জনক।

লাগলে হয়তো আমরাও আমাদেরটা বানিয়ে নেব।

ট্রিভিয়া সমুহ

১। এইখানে অধিকাংশই এ্যাসাম্পশন, কিছু ফ্যাক্টও আছে। আশা করছি এ্যাসাম্পশন আর ফ্যাক্ট মিলিয়ে বা গুলিয়ে ফেলবেন না।

২। যেহেতু কোরাতে সবাই শিক্ষিত এবং ভদ্রলোক গোছের মানুষ, সেহেতু মন্তব্যের সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ, রাজনৈতিক বিদ্বেষ পরিহার করার অনুরোধ করবো। যেহেতু রাজনীতি নিয়েই এখানে লেখা হয়েছে অনেকটা, সেহেতু চাইলেও রাজনৈতিক আলাপ মন্তব্যে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে আশা করবো সেটা আক্রমণাত্মক না হয়ে যৌক্তিক, বিশ্লেষণধর্মী হবে।
ধন্যবাদ